Tom & Jerry এর নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে একটা ইঁদুরের পিছনে বিড়ালের দৌড়ানোর দৃশ্য।ছোটবেলায় আমি এই Tom & Jerry-এর বিশাল ফ্যান ছিলাম।এখনও আছি।যদিও বর্তমানের মর্ডান ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ডোরেমন বলতেই অস্থির।কিন্তু এতেও Tom & Jerry-এর জৌলুস বিন্দুমাত্র কমেনি।


এই Tom & Jerry এর নির্মাতার নাম হয়তো বা অনেকে জেনে থাকতে পারেন।কেননা, কার্টুনের শুরুতেই তার নাম দেখানো হয়।কিন্তু কার্টুনের নামকরণের ইতিহাস হয়তো বা খুব কম সংখ্যক মানুষই জানে।আজ এই Tom & Jerry এর নাম ইতিহাস নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ব্লগ লিখব।
প্রথমেই আসি নির্মাতার কথায়।টম অ্যান্ড জেরির নির্মাতা দুইজন ; উইলিয়াম হ্যানা আর জোসেফ বারবারা।
টম অ্যান্ড জেরি নামকরণের ইতিহাস বলার আগে টম অ্যান্ড জেরির জন্মকথা অর্থ্যাৎ কীভাবে টম অ্যান্ড জেরি সৃষ্টিহল তা বলতে হয়।উইলিয়াম হ্যানা আর জোসেফ বারবারা মেট্রো গোল্ডউইন মায়ার নামের সিনেমা কোম্পানিতে কাজ করতেন।এই কোম্পানির জন্যই তারা কার্টুনটি(Tom & Jerry) তৈরি করেছিলেন। এখনো এই কোম্পানিই কার্টুনটি তৈরি করে।Metro Goldwyn Mayer, সংক্ষেপে MGM কোম্পানির রুডলফ আইসিং ইউনিটে কাজ করতেন। হ্যানা গল্প বানাতেন ও ক্যারেক্টার ডিজাইন করতেন আর  বারবারা পরিচালনা করতেন।

 

১৯৩০ সাল। ইউনিটটি খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। তাদের কার্টুন সিরিজ “ক্যাপ্টেন অ্যান্ড দ্য কিডজ” চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। হ্যানা আর বারবারা চিন্তিত।এবার কী নিয়ে কার্টুন বানানো যায়। বারবারা ঠিক করলেন, ইঁদুর আর বিড়ালের লড়াই নিয়ে একটা কার্টুন বানানো যাক।নাম দিলেন “পুস গেটস দি বুট।” গল্পের বিড়ালের নাম ঠিক হলো ‘জ্যাস্পার’, ইঁদুরের নাম ‘জিংক্স’।

কার্টুনটির গল্পটাও ছিল ভীষণ মজার।জ্যাস্পার জিংক্সকে ধরার জন্য ওকে ত হঠাৎ ধাক্কা লেগে একটা ফুলের টব ভেঙে গেল। আর যায় কোথায়, জ্যাস্পারের আফ্রো-আমেরিকান মালকিন চিৎকার করে উঠলেন- “আরেকটা কিছু যদি ভাঙে, তোমাকে এক্কেবারে বের করে দেব।” ভয়ে তো জ্যাস্পারের বুক শুকিয়ে গেল। আর জিংক্সও মজা পেয়ে গেল। ও ঘরের মধ্যে ভাঙার মতো যা কিছু আছে, সব ফেলে দিতে লাগলো। আর জ্যাস্পার জান-প্রাণ দিয়ে সে সব ধরতে লাগলো।

এত্তো সুন্দর গল্পের একটা কার্টুন, কিন্তু এমজিএমের সহকর্মীরা কিন্তু হ্যানা-বারবারার এই কার্টুন নিয়ে তেমন আশাবাদী হতে পারলো না। ওরা বললো, এ আর এমন কী? ইঁদুর-বিড়ালের সেই পুরোনো একঘেঁয়ে গল্প।যাই হোক,১৯৪০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, মুক্তি পেল পুস গেটস দ্য বুট। মোটামুটি ব্যবসাও করলো।কিন্তু MGM কোম্পানি হ্যানা-বারবারাকে ইঁদুর- বিড়ালের এই মজার কার্টুন বানাতে না দিয়ে “গ্যালোপিং গ্যালস আর অফিসার পুচ” নামের দুটো কার্টুনের কাজ দেয়।

আশ্চর্যের খবর কি জানেন? ১৯৪১ সালের অস্কারে মনোনয়ন পায় পুস গেটস দি বুট!!! অস্কার মনোনয়ন পাওয়া কিন্তু বিশাল ব্যাপার।অবশ্য শেষ পর্যন্ত কার্টুনটি অস্কার জেতেনি, অস্কার জোটে এমজিএমেরই আরেক কার্টুন “দ্য মিল্কি ওয়ে”’র কপালে।কিন্তু প্রযোজক ফ্রেড কুইম্বির মত পাল্টানোর জন্য মনোনয়নই যথেষ্ট ছিল। তিনি তড়িঘড়ি করে হ্যানা-বারবারাকে ডেকে ইঁদুর- বিড়ালের গল্প নিয়ে কার্টুনটির সিরিজ বানাতে বললেন।তারা দুজনও হাতের কাজ ফেলে প্রিয় সিরিজটি বানানোর কাজে হাত দিলেন। 🙂

সিরিজ তৈরী করতে গেলে তো একটা ভালো নামের দরকার।কেউ সুন্দর কোনো নাম পাচ্ছিল না।তারা ভাবলেন একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নাম নেওয়া যায়।যেই ভাবা সেই কাজ।প্রতিযোগিতায় বলা হয় যার নাম নির্বাচিত হবে সে ৫০ ডলার পুরস্কার পাবে।”জন কার” নামের এক অ্যানিমেটর টম অ্যান্ড জেরি নাম দিয়ে জিতে নিলেন ৫০ ডলার।এবার হ্যানা-বারবারাও পুরোদমে কাজ শুরু করে দিলেন। ১৯৪১ সালেই মুক্তি পেল টম অ্যান্ড জেরির প্রথম কার্টুন- “দ্য মিডনাইট স্ন্যাক”।

আর এরপর থেকে হ্যানা-বারবারা টম অ্যান্ড জেরি ছাড়া অন্য কোনো কাজে বলতে গেলে হাতই দেননি, সারা জীবন টম অ্যান্ড জেরি-ই বানিয়ে গেছেন। আর তাদের এই কার্টুনের এমনই যাদু, এখনো ছেলে-বুড়ো সবাই টম অ্যান্ড জেরি বলতে পাগল।উইলিয়াম হ্যানা ২০০১ সালে, আর জোসেফ বারবারা মারা গেছেন ২০০৬ সালে।