বাংলাদেশের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাস নিয়ে এমনিতেও কয়েকদিন সুধী মহল এবং সোশ্যাল মিডিয়া গরম ছিল। সম্প্রতি আবারো যে বিষয়টি নিয়ে মাঠ গরম হয়েছে তা হলো প্রশ্ন ফাসের ব্যাপারটি নিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থী এবং ২০১৪ এইচ এস সি পরীক্ষার্থীদের তুমুল বিরোধ।

যে ভাবে শুরুঃ
প্রশ্ন ফাসের ব্যাপার নিয়ে জাফর ইকবাল স্যারের আন্দোলনে নামার ঘোষনা এবং তাতে বুয়েট ছাত্রদের (ছাত্রীদেরও) সমর্থন দেয়া থেকে শুরু হয় মূল ঘটনা। তবে চুইংগামের মত ব্যাপারটি ব্যাপক আকার ধারন করে যখন এইচ এস সি ২০১৪ এর শিক্ষার্থীরা (কিছু শিক্ষার্থী) এর তীব্র বিরধিতা করে এবং উত্তপ্ত ভাষা আদান প্রদানের পর থেকে। এখন তো ১৪ ব্যাচ আরো ভয়ঙ্কর দাবী করে বসেছেন। তারা দাবী করছেন বুয়েট বন্ধ করার।

কিছু কথাঃ
প্রথমেই বলে নেই যেহেতু, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে বুয়েট বাংলাদেশের অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান সেহেতু এটি বন্ধের দাবী করা রীতিমত “Joke of The Year” ছাড়া আর কিছুই না। উপরন্তু যারা এখন বুয়েট বন্ধের দাবী করসেন অবশ্যই তাদের ৭০% এর জীবন যৌবনের স্বপ্ন বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া , এবং কিছুদিন পরেই তারাই আবার বুয়েট ভর্তি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নাওয়া খাওয়া ভুলে পরতে বসবেন।
প্রশ্ন পাশ অবশ্যই খুবই বাজে একটা কাজ। এতে যেমন আসল মেধা যাচাই সম্ভব হইয় না, তেমনি বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়।
পাশাপাশি জাফর ইকবাল স্যারের প্রশ্ন ফাসের প্রতিবাদ এবং বুয়েট শিক্ষার্থীদের সমর্থন অযৌক্তিক কিছু না, অন্তত আমার ব্যাক্তিগত মতামত তাদের পক্ষে।
এখানে হয়তবা ১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রধান ভয় পরীক্ষা বাতিল করা। অথবা পরবর্তিতে প্রশ্ন ফাস না হওয়া। এখানে কথা হল পরিক্ষা বাতিল একটি দীর্ঘ এবং বিতর্কিত প্রক্রিয়া।তাই পরিক্ষা বাতিল হবার সম্ভাবনা কম। আর তার চেয়ে বড় কথা ফাস হওয়া প্রশ্ন নিয়ে পাশ করা কখনই ভাল কোনো ব্যাপার না। আর এভাবে পাশের মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই।
তার উপর আবার ১৪ ব্যাচ দাবি করছেন যে তারা বুয়েটে ভর্তি পরিক্ষা প্রশ্নও ফাস করবেন। ব্যাপারটা এমন হয়েছে ফাস করা প্রশ্ন নিয়া পাস করারটা তাদের স্বভাব হয়ে গিয়েছে। হয়তবা ভবিষ্যতে তারা দাবী করে বসবেন “অমুক ইন্টারভিউয়ের প্রশ্ন ফাস করা লাগবে।”
একে অপরের প্রতি তারা কতটা মারমুখি তার ছোটো একটু নমুনা দেখুন এই পেইজটিতে ঃ https://www.facebook.com/events/1448470395400486/
তাদের বক্তব্যঃ “গাঞ্জা পট্টিতে গাঞ্জা খাওয়ার সময় হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে গাঞ্জার বিস্ফারণ ঘটে বুয়েটের চোট্টারা সব মানুষিক ভাবে আহত। তাই তারা এখন কি রেখে কি করবে বুঝে উঠতে পারছেন না। তাদের আপাতত ভালো মানের এক টা পাগলা গারদে পুরে রাখা হওক।”
এ ধরনের আক্রমণাত্মক আচরন অন্যদের খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষদের কাছ থেকে আমরা কখনই এধরনের আচরন আশা করি না। অবশ্যই কারো প্রতি কারো ক্ষোভ থাকতেই পারে। তাই বলে এধরনের আচরন আশা করি না আমরা।
আর একটা জিনিশ আপনাদের সব সময় মাথায় রাখতে হবে আপনাদের দাবীর পক্ষে কখনই কোন সাপোর্ট পাবেন না। বুয়েট বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নিজের মত করেই এগিয়ে যাবে। প্রশ্ন ফাসও বন্ধ হবে অদুর ভবিষ্যতে। কিন্তু আপনাদের এধরনের আচরন বা মন্তব্য প্রভাব ফেলবে আপনাদের নিজেদের ক্যারিয়ারের উপরই। তথাপি, এই প্রশ্ন ফাসের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরো বড় হবে যখন অন্য প্রতিষ্ঠান গুলো এতে সমর্থন দিবে। তখন শুধু মাত্র কোণঠাসাই হবেন।
সুতরাং : ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।

যে ভাবে শেষ হবেঃ
খুব সাধারন ভাবেই শেষ হবে এই যুদ্ধ আমার মতে। পরিক্ষা শেষ হওয়ার পর যথারীতি ১৪ ব্যাচ বসে যাবে ভর্তি পরিক্ষা প্রস্তুতি নিতে, (তাদের মধ্যে অনেকে আবার বুয়েটেই) , প্রশ্ন ফাসের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরো বড় হবে। এবং আরো কয়েকদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠবে এ নিয়ে।
ভালোয় ভালোয় সব শেষ হওয়ার আশায় রইলাম।