আবার আসলাম। আসলে বারমুডা নিয়ে আপনাদের সাথে কথা না বললে ভালো লাগছিল না, মানে হাত টা কেমন যেন কচকচ করছিল।:p

তো শুরু করা যাক পর্ব-৩:

বারমুডায় হারিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কথা তো আমরা জানলাম, এবার আসা যাক বিমান গুলোর ব্যাপারে।২৮ ডিসেম্বর ১৯৪৯সাল।স্যান জুয়ান থেকে মায়ামির উদ্দেশ্যে যাএা করল একটি DC-3 বিমান। ল্যান্ড করার কিছুক্ষণ আগে মায়ামি টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ করল পাইলট। সব ঠিকঠাক।কিন্তু হঠাৎ করেই মায়ামি টাওয়ারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল N 1b002 DC-3বিমানটি।

N 1b002 DC-3

 

জরুরি বিপদ সংকেত ঘোষণা করল মায়ামি টাওয়ার। মায়ামির আশেপাশের কয়েকশো বর্গ মাইল এলাকায় সমস্ত জলযান ও নৌযান সর্তক হয়ে গেল।কয়েকটা সার্চ প্লেনও কাজে লেগে গেল।আবহাওয়া অফিস থেকে জানা গেল সেদিন তো দূরে থাক গত কয়েক সপ্তাহেও কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি ঐ এলাকায়।বিমান বিধ্বস্ত হওয়ারও কোন চিহ্ন পাওয়া গেল না আশেপাশে কয়েকশো বর্গ মাইলের স্থলে বা জলে।পাওয়া যায় নি কোনদিনও।জানিয়ে রাখি DC-3 কে শেষ দেখা যায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এলাকায়।

জ্যাক্সনভিল শহরে সিসিলফিল্ড বিমান ক্ষেএ থেকে ট্রেনিং দেয়া হয় অত্যন্ত অভিজ্ঞ সব পাইলটদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য।১৯৪৫ সালে একই ভাবে রুটিন মাফিক আকাশে উড়েছিল SB2C Hell Driver নামের ১২টি বিমান।বারমুডা আশপাশ থেকে ঘুরে আসার কথা ওদের।ফিরে এলো ঠিকই কিন্তু ১০টি। DC-3 এর  মতোই তন্ন তন্ন হয়ে খোজা হল তাদের।কিন্তু ভাই এটা তো বারমুডা

একই বছর Florida Fort Lowerdel Air Station থেকে “Flight 19” মহড়ায় অংশ গ্রহণ করে তৎকালীনFlight 19 সর্বশ্রেষ্ঠ প্রযুক্তির ৫টা অ্যাভেন্ঞ্জার বিমান।হঠাৎ ইমারজেন্সি সংকেত পাঠানো হল “Flight 19” এর লিডারের কাছ থেকে কন্ট্রোল টাওয়ারে।বলা হল “পথের দিশা হারিয়ে ফেলেছি আমরা” এয়ারবেস থেকে মাএ ৭০-৮০ মাইল দূরে এত অভিজ্ঞ পাইলটদের পথ হারিয়ে ফেলার মানেটা কি? হঠাৎ লক্ষ্য করল টাওয়ার অপারেটর রাডার ডাটা থেকে বেমালুম গায়েব হয়ে গেছে ৫টা বিমান।বিপদ সংকেত ঘোষণা করা হল।“Flight 19” থেকে সর্বশেষ বার্তা শোনা গেল “We are completely lost”.খোঁজ নেমে পড়ল অত্যাধুনিক প্রযুক্তির “মার্টিন মেরিনার”-পাইলট লেফটেন্যান্ট হ্যারি।ভোজবাজির মতো অবিশ্বাস্য ভাবে নিখোঁজ হয়ে গেল সেটিও মাএ ৫০ মিনিটের মাথায়।পরদিন সর্বমোট ৪০ টি সার্চ প্লেন,২৫০ কোস্ট গার্ড ও আশেপাশের সকল নৌযান ও জলযান নেমে পড়ল ৫টা অ্যাভেন্ঞ্জার ও মার্টিন মেরিনার খোজে।পাওয়া যায় নি আজও তাদের।এরকম আরও কাহিনী রয়েছে।বারমুডার উপর থেকে উড়ে যাবার সময় বনবন করে ঘুরতে থাকা কম্পাসের কাটা,মাঝে মাঝে রহস্যজনক কুয়াশার সৃষ্টি,আবার হঠাৎ করেই মিলিয়ে যাওয়া………..ওসব সবই কাছাকাছি গল্প।আসুন এবার দেখা যাক,

কি আছে এই বারমুডা রহস্যের মূলে:

বারমুডায় একের পর এক জাহাজ, বিমানগুলোর হারিয়ে যাওয়ার সম্পর্কে প্রথম খোঁজ শুরু করেন “মি.কুসচে”,তার বক্তব্যে পরে আসি।

আগে দেখা যাক বারমুডার এসব আজব অন্তর্ধানের রহস্যের কারন কি হতে পারে।

  • অতি শক্তিশালী ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ড
  • সক্রিয় ব্ল্যাক হোল
  • আইনস্টাইনের সুএানুযায়ী টাইম ট্রাপ
  • প্যারালাল ইউনিভার্স
  • 4th ডাইমেনশনাল স্পেস
  • আমাদের ভবিষ্যতের মানুষেরা
  • ভিনগ্রহের অতি বুদ্ধিমান কোন প্রাণী
  •  বর্তমান সময়ের বর্তমান বিশ্বেরই কোন দেশ

এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে পরবর্তী পর্বগুলোতে।আপনাদের কি ধারনা লিখুন comment-এ।