কেমন আছেন সবাই। অনেক অনেক দিন পর বারমুডা সিরিজের অরেকটি পর্ব নিয়ে এলাম। আসলে বারমুডার মত একটা স্পর্শকাতর ও জটিল বিষয় নিয়ে লেখার জন্য তথ্য সমূহ ও তার থেকে সত্য অসত্য যাচাই বাছাই করা খুবই কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তার উপর আবার ব্যক্তিগত মানুষদের ঝামেলা তো আছেই!!!

এই পর্বে আমরা বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্যের ব্যাপারে বিভিন্ন ব্যক্তিদের গবেষণা ও উক্তি সম্পর্কে আলোচনা করব।

মি. কুসচে:

প্রথমে এই ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে নিই। পুরো নাম লরেন্স ডেভিড  কুসচে (Lawrence David kusche) জন্ম

ডেভিড লরেন্স কুসচে
লরেন্স ডেভিড  কুসচে

নভেম্বর ০১, ১৯৪০  তিনি জন্ম গ্রহণ করেণ উইচকনসিন  (Wisconsin) এর রেসিনিতে (Racine)  কিন্তু বেড়ে ওঠা অ্যারিজোনা (Arizona)-এর ফোনিক্র (Phoenix) শহরে। ১৯৭০ সালে “Arizona State University” তে একজন লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। এর আগে তিনি পেশাদার পাইলট ছিলেন। লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ করার সময় থেকেই তিনি বারমুডা রহস্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। তিনি গবেষণা শুরু করেন। তিনি তার গবেষণার মাধ্যমে বারমুডা রহস্যগুলোর কারণ হিসেবে প্রকৃতিক বিপর্যয় বা নিছকই দূর্ঘটনাকে দায়ী করেন। তার এ সব গবেষণার ফল সমূহ নিয়ে তিনি তার বিখ্যাত “The Bermuda triangle Mystery Solved” বইটি প্রকাশ করেন ১৯৭৫ সালে।

গবেষণার ফলাফল:

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল ফিরে রহস্যগুলোর ব্যাপারে মি.কুসচে মোটামুটি নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়কে দায়ী করেছেন

  • সাধারণ প্রাকৃতিক দূর্ঘটনা
  • নিছক দূর্ঘটনা
  • সাধারন ঘটনাকে চটকদারভাবে প্রকাশ করা
  • তেমন ভালভাবে গবেষণা না করা

মানুষের অহেতুক ভুল ধারণা

তিনি তার বইয়ে “Flight 19” এর রহস্যজনক উধাও হওয়ার ব্যাপারে লিখেছেন। এ ক্ষেত্রে উৎস ছিল তিনি “US Navy” এর রিপোর্ট এবং সেই সব ব্যক্তিদের সাথে কথোপকথন, যারা ঐ বিমান রুটে চলাচলে অভিজ্ঞ ছিলেন। Flight-19 এ থাকা অ্যাভেন্জ্ঞার বিমানগুলো হারিয়ে গেছিল ৫ ডিসেম্বর।কুসচে পুরানো নথিপত্র ঘেটে মিয়ামি ওয়েদার ব্যুরো থেকে তথ্য পান যে ঐ মিয়ামির আকাশে মোটামুটি ধরনের একটা ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছিল। মেঘ জমাট বেধেছিল। এসব ব্যাপার বিমান উড্ডয়নের আগেই দেখে নেয়ার কথা কিন্তু তা করেনি Flight 19 এর কর্তারা। শুধু দোষ তাই প্রকৃতিক বিপর্যয়ে গুলক্রমে জমাট মেঘে ঢুকে পড়া, রেডিও বিকল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি অবশ্যই সম্ভব। দোষ দেয়া হয় শুধু শুধু বেচারা বারমুডার। তবে এখানেও প্রশ্ন রয়ে যায়, যেমন: পাঁচটা বিমানই একসাথে ভুল করল কেন? ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে একটারও ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেল না কেন? অনেকগুলো প্রশ্নের উওর নেই। তাই Flight 19 এর ব্যাপারে কুসচে বলেন, “আসলে Flight 19 এর উধাও হওয়াটা শুধুমাত্র দূর্ঘটনা হওয়া অসম্ভব কিছু নয় কিন্তু রহস্য আছেই”

তবে DC-3 বিমানের হাওয়া হয়ে যাওয়ার জন্য দুর্ঘটনাকে দোষী প্রমান করেই ছেড়েছেন কুসচে। মজার ব্যাপার হল DC-3 এর দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করেছিল একাধিক টিম। এ কারনেই তদন্তের রিপোর্ট ছিল একাধিক। মজার কথা এক একটা রিপোর্টে দূর্ঘটনার কারণ এক একরকম ছিল। 😆

বিমান ছাড়ার সময়ের কথাই ধরা যাক, কয়েকটা রিপোর্টে লেখা রাত ১০টা ৩০ মিনিট আবার অন্য এক জায়গায় লেখা ১১টা ৩০ মিনিট। তারপর প্রথম থেকেই কম্পাস, রেডিও, ল্যান্ডিং গিয়ার ইত্যাদি চালনার জন্য ব্যাটারিতে গন্ডগোল ছিল। এ কারনে আগের দিনের ফ্লাইট বাতিলও করা হয়েছিল। কিন্তু দূর্ঘটনার দিন একরকম জোর করেই ব্যাটারিতে পানি ভরে ফ্লাইট চালানো হয়। তাতে অবশ্য সাময়িকভাবে চালু হয়েছিল যন্ত্রপাতি সমূহ। তাই কুসচের মতে স্যান জুয়ানো থেকে মিয়ামি যাওয়ার পথে দূর্ঘটনায় পড়াটা খুব স্বাভাবিক। তার উপর কম্পাস বা রেডিও ব্যাটারির অভাবে কাজ করছিল না। আর উওর আন্টলান্টিকের গভীর সমুদ্রে, দুর্দান্ত ঢেউয়ের মাঝে আস্ত বিমান খানা পড়লে ধ্বংসাবেষ কেন তেলের ফোটাও খুঁজে পাওয়ার কথা না। 😯

আন্টলান্টিকের গভীর সমুদ্রে DC-3
আন্টলান্টিকের গভীর সমুদ্রে DC-3

তাই কুসচে আত্মবিশ্বাসের সাথেই রায় দেন DC-3 নিছকই একটি দূর্ঘটনার শিকার।

এরকমই আরো বেশ কয়েকটি রহস্যের কারণ হিসেবে কুসচে দূর্ঘটনা বা প্রকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করেছেন ও তার স্বপক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন। এরকম আরো ঘটনা নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করব পরের পর্বে। সে পর্যন্ত ভালো থাকবেন……