যদি আপনাকে কেউ জিজ্ঞেস করে যে,“বলুন তো আগামী ১০বছর পর অমুক জায়গায় কি হবে?” অধিকাংশ মানুষ যা উওর দেয় তা হল,“আমি ক্যামনে জানব?আমার কাছে কি Time Machine কাছে নাকি?” 😛 ভালই হত যদি Time Machine থাকত!তবে যাই হোক আপনারা হয়তো ভাবছেন বারমুডারহস্যের মাঝখানে Time Machine এর কথা তুললাম কেন!আচ্ছা এমন যদি হয় যে আমাদের পৃথিবীর কয়েকশ বছর ভবিষ্যতের মানুষেরা এসে এসে তুলে নিয়ে আমাদের সময়ের জাহাজ,বিমান, আর মানুষ গুলোকে?

টাইম মেশিন
Time Machine

এই প্রশ্নের সত্যতা ও সম্ভাবনা নিয়েই আলোচনা করব এই পর্বে।

টাইম ট্রাভেল,টাইম মেশিন ও টাইম ট্র্যাপ:

এই সম্পর্কে মোটামুটি সবারই ধারণা আছে।তাই বেশি জটিলতায় না গিয়ে সোজা বাংলায় বলি, Time বা সময়ের মধ্যে ঘোরাঘুরি হল Time Travel.আর আপনার এই ঘোরাঘুরিতে যে যন্ত্রখানা সাহায্য করবে তা হল Time Machine.

“আইনস্টাইন”আংকেলের সূত্রানুযায়ী “Time Travel” মূলত একটি স্থানে থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পরিভ্রমণ

অ্যালবার্ট আইনস্টাইন
Albert Einstein

করা।কেউ কেউ বলে থাকেন “ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্সের” সাহায্যে এটি করা সম্ভব।সেই হিসেবে ভবিষ্যতের মানুষদের আমাদের সময়ে আসার জন্য একটা ক্ষেত্র কিন্তু অবশ্যই দরকার।হতে পারে সেই ক্ষেত্রটি বারমুডা।বলা হয়ে থাকে টাইম ট্রাভেলের জন্য ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড জরুরি।আর বারমুডায় ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের কথা তো গত পর্বেই আলোচনা করা হয়েছে।

সবগুলো যুক্তি একত্র করলে যেটা দাড়ায় সেটা হল বহু বছর ভবিষ্যৎ থেকে আমাদের পৃথিবীর মানুষেরা মাঝে মাঝেই আমাদের সময়ে চলে আসে।মাঝে মাঝে পছন্দ হলেই তুলে নিয়ে যায় এ সময়ের অনেক কিছুই।আর তাদের আসার ক্ষেত্র হল বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এবং এরকম অন্যান্য রহস্যময় জায়গাগুলো।কিছুটা হাস্যকর শোনাচ্ছে, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা সম্ভব। যদি তাই হয়, তবে আকাশে প্রায়ই যে অদ্ভুত আকাশযানগুলো দেখা যায়, সেগুলো কি আমাদের ভবিষ্যতের মানুষদের?হতে পারে!!!আরে ভাই Nothing Is Impossible…..তবে শুধু তাই নয় প্রকৃতিকভাবেও নাকি “টাইম ট্র্যাপ ডোর” সৃষ্টি হয়।এমনটাই বলেন কিছু কিছু বিজ্ঞানী।আর এই সব Natural Created “টাইম ট্র্যাপ” দিয়ে আমাদের সময়ের মানুষেরা ঢুকে পড়ে অন্য সময়ে।

১৯২৯ সালে বৈজ্ঞানিক অ্যাডমিরাল রির্চাড র্বাড উড়ে যাচ্ছিলেন দক্ষিণ মেরুর চুম্বক ক্ষেত্র দিয়।সেখানে শুধু

অ্যাডমিরাল রির্চাড র্বাড
Admiral Richard Byrd

মাইলের পরে মাইল বরফ।কিন্তু হঠাৎ দেখলেন বার্ড তার বিমান উড়ে যাচ্ছে সবুজ তৃণভূমির উপর দিয়ে।চামড়ার পোশাক পড়া কয়েকজন আদিম মানুষও দেখলেন তিনি।তবে কি রাস্তা ভুল করলেন?না!রাডার ও অন্যান্য ডাটা বলছে তিনি ঠিক রাস্তাই আছেন।হঠাৎ করেই ভোজবাজির মত গায়েব হয়ে গেল সব।নিচে শুধু বরফ আর বরফ।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন ঠিকই বলেছেন বার্ড।ক্ষণিকের জন্য অন্য ডাইমেনশনে ঢুকে পড়েছিলেন বার্ড।

3D এর নাম তো সবাই শুনেছেন।অনেকে হয়তো জানেনও 4th Dimension [4D] নামক এক বস্তুর ধারণা দিয়ে গেছেন আইনস্টাইন।আর এই চার নম্বর ডাইমেনশন হল Time .এই টাইম ট্রাভেল, টাইম ট্র্যাপ, ইন্টার ডাইমেনশনাল ডোর, 4D সবই কিন্তু একই সূত্রে গাঁথা।

এতো গেল কাল্পনিক বা এখন পর্যন্ত অবাস্তব কারণসমূহ, যেগুলো ধারণা করা হয় বারমুডা রহস্যগুলোর কারণ হিসেবে।তাছাড়াও কিন্তু আরও বড় একটা রহস্য আছে।পৃথিবীর প্রাচীন যুগ থেকেই শক্তিশালী ধনী দেশগুলো ভয় দেখিয়ে, অত্যাচার করে স্বার্থ নেয় অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোর কাছ থেকে।বিশ্বায়নের এই যুগেও প্রচলিত আছে এই নিয়ম ১ম ও ৩য় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে।হতে পারে বারমুডাও এই সব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক স্বার্থের আগ্রাসনের স্বীকার।যদি তাই হয় কারা করছে এসব? পূর্ববর্তী পর্বগুলো থেকে ধারণা করুন তো কোন দেশ থাকতে পারে এ ষড়যন্ত্রে।এ সব নিয়ে বিস্তারিত হবে পরবর্তী পর্বে।সে পর্যন্ত সাথেই থাকুন……………