অবশেষে আইফোন ফাইভ দেখালো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টেকনোলজি কোম্পানি অ্যাপল। আইফোনের নতুন মডেলটি নিয়ে অনেকদিন ধরেই চলছিলো নানা জল্পনা কল্পনা; টেকনোলজি দুনিয়ায় শোনা যাচ্ছিলো নানা গুজব। সব গুজবের অবসান ঘটিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর এলো আইফোন ফাইভ। আইফোন ফাইভ শুধু বিশ্বের সবচেয়ে পাতলা স্মার্টফোন হিসেবে খ্যাত আইফোনের নতুন মডেলই নয়, পুরো স্মার্টফোনটিই নতুনভাবে ডিজাইন করেছে অ্যাপল।

আই-ফোন-৫

১২ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিসকোতে এক কনফারেন্সে অ্যাপলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিল শিলার বলেন-“‘আইফোন ফাইভ-এর সবকিছুই আমরা নতুন করে তৈরি করেছি। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো, এটাকে আরো ছোট ও উন্নত করে তৈরি করা.”

আইফোনের নতুন মডেল ছাড়াও আইপডেরও নতুন মডেলের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। শুধু তাই নয়, পরিবর্তন আসছে আইটিউনসেও আইফোনের দাম প্যাকেজের অধীনে হবে মডেলভেদে ১৯৯ থেকে ৩৯৯ ডলার পর্যন্ত। আইফোন ফোরএস-এর ১৬ জিবি মডেলটির দাম নেমে আসবে ৯৯ ডলারে।

আরো হালকা হল আইফোন ফাইভ:

আইফোন ফোরএস-এর তুলনায় লম্বায় একটু বড় হলেও আরো হালকা আইফোন ফাইভ। রয়েছে ১১৩৬ বাই ৬৪০ রেজুলিউশন রেটিনা ডিসপ্লের ৪ ইঞ্চি লম্বা স্ক্রিন। ৭.৬ মিলিমিটার পুরু আইফোন ফাইভের ওজনটাও কম- মাত্র ১১২ গ্রাম। আইফোন ফোরএসের তুলনায় ১৮ শতাংশ পাতলা এবং ২০ শতাংশ হালকা আইফোন ফাইভ। অ্যাপল জানিয়েছে নতুন আইফোনের স্ক্রিনটি আরো উন্নত। ৪৪ শতাংশ বেশি রঙ্গিন আইফোন ৫-এর স্ক্রিন।

আপডেটেড হার্ডওয়্যার:

আইফোন ৫-এ রয়েছে এসিক্স (অ৬) প্রসেসর, যা আইফোন ফোরএসের তুলনায় দ্বিগুন গতিসম্পন্ন। যোগ হয়েছে আরো উন্নত অডিও সিস্টেম। আইফোন ফোরএস-এর মতো আইফোন ফাইভ-এর ক্যামেরাটিও ৮ মেগাপিক্সেলের। তবে আইফোন ফাইভ-এর নতুন ক্যামেরায় অল্প আলোতেও তোলা যাবে পরিষ্কার ছবি। নতুন আইফোনে প্যানোরামা মোড থাকার কথাও জানিয়েছে অ্যাপল।

ব্যাটারি লাইফের দিক দিয়েও আগের মডেল টপকে গেছে নতুন আইফোন। শিলার জানান, একবার চার্জ করেই টানা ৮ ঘণ্টা কথা বলা যাবে আইফোন ফাইভ-এ। আর স্ট্যান্ডবাই মোডে চার্জ থাকবে টানা ২২৫ ঘণ্টা।

নতুন কেসিং(সাজসজ্জা)

কালো এবং সাদা-এই দুই রঙের কেসিংয়ে বাজারে পাওয়া যাবে আইফোন ফাইভ। স্মার্টফোনটির কেসিং তৈরি করা হয়েছে কাঁচ এবং অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে। কেসিংয়ের দিক থেকে আইফোন ফোরএসের সঙ্গে আইফোন ফাইভের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে, আইফোন ফোরএসের পেছনটা ছিলো কাঁচের তৈরি; কিন্তু আইফোন ফাইভের ব্যাক কেসিং তৈরি অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে। আইফোন ফোরএস নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ ছিলো অল্পতেই ভেঙ্গে যায় স্মার্টফোনটির পেছনের কেসিং। তাই আইফোন ফাইভ নিয়ে ব্যবহারকারীদের সে দুশ্চিন্তা যে করতে হবে না, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আগের তুলনায় ছোট নতুন আইফোনটির কেবল কানেক্টরটিও।

নতুন ওয়্যারলেস প্রযুক্তি

আইফোর ফাইভ-এ আছে এলটিই বা ফোরজি ওয়্যারলেস কানেকশন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা ফোরজি প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন ভেরাইজন, স্প্রিন্ট এবং এটিঅ্যান্ডটির মতো ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর সুবাদে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ব্যবহারকারীরা অন্যান্য ফোরজি ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবেন অনায়াসে।

আইওএস সিক্স

আইফোন ফাইভ চলবে আইওএস সিক্স অপারেটিং সিস্টেমে। আর অ্যাপল সিইও টিম কুক বলেছিলেন, আইফোনের প্রথম মডেলটির পর আইফোন ফাইভ এবং আইওএস সিক্স হচ্ছে অ্যাপলের সবচেয়ে অগ্রগতি।আইওএস সিক্স-এ রয়েছে অনেকগুলো নতুন ফিচার। গুগল ম্যাপসের বদলে আইওএস সিক্স-এ রয়েছে অ্যাপলের নিজস্ব ম্যাপিং অ্যাপ্লিকেশন। ফেইসবুক ব্যবহারের জন্যও থাকছে আলাদা অ্যাপ্লিকেশন। আইওএস সিক্সে আরো আছে পাসবুক অ্যাপ, যার বদৌলতে এয়ারপ্লেন টিকেট, রেস্টুরেন্ট কুপন এবং মুভি টিকিটের মতো জিনিসগুলো নিয়ে তেমন একটা মাথা না ঘামালেও চলবে ব্যবহারকারীর।আপডেট করা হয়েছে জনপ্রিয় অ্যাপ ‘সিরি’। এখন সিরি ব্যবহার করে কেবল ভয়েস কমান্ড দিয়েই ফেইসবুকের স্ট্যাটাসটিও আপডেট করা যাবে।
আইওএস সিক্সে ইউটিউব অ্যাপ্লিকেশন না থাকলেও আইফোন ফাইভ বাজারে আসার আগেই আইওএস সিক্সের জন্য নতুন একটি ইউটিউব অ্যাপ্লিকেশন বানিয়েছে গুগল।

দামটা কেমন হবে?

অ্যাপল জানিয়েছে, প্যাকেজের অধীনে আইফোন ফাইভ-এর ১৬ জিবি, ২২ জিবি এবং ৬৪ জিবি মডেলগুলোর দাম হবে যথাক্রমে ১৯৯ ডলার, ২৯৯ ডলার এবং ৩৯৯ ডলার। আইফোন ফোরএস-এর ১৬ জিবি মডেলটির দাম নেমে আসবে ৯৯ ডলারে। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে আইফোন ৫-এর প্রি-অর্ডার নেবে অ্যাপল।

নতুন আইপড!

আইফোন ফাইভ ছাড়াও আইপডের তিনটি মডেলের আপডেটের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। আইপড টাচ, আইপড ন্যানো এবং আইপড শাফল-এই তিনটি ডিভাইসের আপডেটেড মডেল বাজারে আসবে খুবই শিগগিরই। অ্যাপল আরো আনছে নতুন ইয়ারফোন ‘ইয়ারপড’। আইওএস ডিভাইসগুলোর জন্য নতুন করে ডিজাইন করা হয়েছে আইটিউনস স্টোরটিও।

আইফোন ফাইভকে বলা হচ্ছিল ২০১২ সালের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ডিভাইস। সম্প্রতি স্মার্টফোন বাজারের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী স্যামসাংকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে লড়াইয়ে ধরাশায়ী করার পর এখন আইফোন ফাইভ দিয়ে অ্যাপল যে হারানো রাজত্ব আবার দখল করে নিচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।