ঘড়ি বলতে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে গোলাকার কোন বৃত্ত যার ভিতরে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত লেখা আর ৩টা কাঁটা।সবচেয়ে পুরনো ঘড়ি বললে আমাদের চোখের সামনে কীসের ছবি ভেসে ওঠে? সূর্যঘড়ি, তাই না? হ্যাঁ, সূর্যঘড়ি পৃথিবীর প্রাচীনতম ঘড়ি। এই সূর্যঘড়িও কিন্তু অনেক রকমের ছিল। সবচেয়ে প্রাচীন সূর্যঘড়ির মর্যাদা পায় মিশরীয়দের “ওবেলিস্ক।” ধারণা করা হয়, মিশরীয়রা এই ঘড়ি বানানো শিখেছিল খ্রিস্টের জন্মেরও সাড়ে ৩ হাজার বছর আগে।এরকম আরেকটা ঘড়ি আছে,বলা হয় ‘শ্যাডো ক্লক।’ ঐটা বানিয়েছিল ব্যবিলনীয়রা, খ্রিস্টের জন্মের প্রায় দেড় হাজার বছর আগে।

সূর্য ঘড়ি

 

এই সূর্যঘড়িগুলোতে সময় দেখা হতো সূর্যের ছায়া দেখে। অর্থাৎ সময় নির্দেশক যে কাঁটা বা দণ্ড, সেটা স্থির থাকতো আর সূর্যের ছায়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সরে যেতো। আর আমাদের বাসার ঘড়িতে আবার উল্টো। এই কাঁটাগুলোই ঘুরে ঘুরে সময় জানায় দেয়। ছায়া দেখার কোনো বালাই-ই নেই। 😀 এরকম ঘড়ি, মানে যে ঘড়িতে কাঁটা ঘুরে ঘুরে সময় জানায় দেয়, সেরকম ঘড়ি প্রথম বানানো হয় ১৩ শতকে। তবে তখনই এই ঘড়িগুলো তেমন জনপ্রিয় হয়নি। কারণ তখনও যে মানুষের সময় দেখার তেমন প্রয়োজনই হয়নি। সূর্য দেখেই মানুষ বুঝতো- এখন সকাল না দুপুর, বিকাল না সন্ধ্যা। তখন এরচেয়ে বেশি সময় দেখার তেমন দরকার হতো না।
এরপর প্রায় ৪০০ বছর পরে, ১৮ শতকে যখন কল-কারখানা তৈরী শুরু করলো, তখন মানুষের সময় দেখার দরকার হতে শুরু করলো। কেননা,নির্দিষ্ট সময়ে কারখানায় যেতে হবে, নির্দিষ্ট সময় দুপুরের খাবার খেয়ে আবার কাজে লাগতে হবে, নির্দিষ্ট সময়ে ছুটি হবে। তা না হলে তো কারখানাই চলবে না! কারখানায় যদি একজন সকাল সাতটায়, একজন সকাল আটটায়, আরেকজন সকাল দশটায় আসে, মানে যেমন ইচ্ছে তেমন আসতে থাকে, তাহলে কি বিশৃংখলা হত!তখন থেকেই সবার কাঁটাওয়ালা ঘড়ির দরকার পড়লো।এবার কিন্তু ঘড়ি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠলো। 😛 এবার আধুনিক যুগের ঘড়ি দেখুন ❗

আধুনিক ঘড়ি

 

military-watch-company-black-face-and-desert-green-brown-ban-256px-256pxএবার একটা হিসেব মেলানো যাক। যে অঞ্চলে পুরোনো ঘড়িগুলো তৈরি হয়েছিল, মিশর আর ব্যবিলন- এগুলো কিন্তু একই অঞ্চলে। আর এই অঞ্চলের অবস্থানের কারণে সূর্যঘড়ির ছায়া দিনের সাথে ক্রমাগত পশ্চিম থেকে উত্তর হয়ে পূর্বদিকে সরে যেত। অর্থাৎ, দিন যতো গড়িয়ে রাতের দিকে যেত, ছায়াও ততো পশ্চিম দিক থেকে উত্তর দিক হয়ে পূর্ব দিকে যেত। সেখান থেকেই ঘড়ির কাঁটার দিকের ব্যাপারটা এসেছে। সেই অনুযায়ী-ই ঘড়ির কাঁটা পশ্চিম থেকে উত্তর ছুঁয়ে পূর্ব দিকে যায়।

প্রশ্ন আসতে পারে,পশ্চিম-উত্তর-পূর্বের সাথে আবার বাম- ডানের কী সম্পর্ক? আচ্ছা, তাহলে একটা মানচিত্র নিয়ে বসেন। দেখন তো, মানচিত্রের উপরের দিকে দিক নির্দেশক একটা চিহ্ন আছে কিনা?উপরের দিকের চিহ্নের পাশে কোন দিকের কথা লেখা? আর কিছু লেখা না থাকলেও ইংরেজি বর্ণের ‘N’ লেখা আছে, তাই না? এই ‘N’এর হলো North বুঝাতে লেখা হয়। বাংলায় যাকে বলে উত্তর। আর মানচিত্রের নিচের দিকটা হল দক্ষিণ। এবার বলেন তো, বাম দিকে আর ডান দিকে কী পরে? আমিই বলি, বাম দিকে পশ্চিম, আর ডান দিকে পূর্ব।এজন্যই ঘড়ির কাঁটা কেন বাম থেকে সবসময় ডান দিকে যায়। 😉