আগের পর্ব

[Flashback: স্বপ্ন নিয়ে মতামত, স্বপ্নের প্রকারভেদ]

গত রাতে ভয়াবহ একটা স্বপ্ন দেখলাম।দেখলাম যে EduportalBD থেকে আমার আগের Post টা Delete মারা হয়েছে।অভিযোগ স্বপ্নের সংজ্ঞাই নাকি আমি দেই নি।বাস্তবে যখন Remove মারা হয় নি তাই আগেভাগেই স্বপ্নের সংজ্ঞা দেই। 😛

✔ বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ শুধু ঘুমের মধ্যেই নিজের অজান্তে যা দেখে তাই শুধুমাএ স্বপ্ন নয়, বরং মানুষ যে কোন সময় নিজের অজান্তেই তার মস্তিষ্ক কর্তৃক যে অনির্দিষ্ট অবাস্তব ঘটনার সম্মুখীন হয় তাই স্বপ্ন

আবার Wikipedia এর মতে, স্বপ্ন হল মানুষের জীবনের ঘটনা, মন্তব্য, ইচ্ছা, আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদি দ্বারা সৃষ্ট এমন এক ঘটনা যা মানুষ মনের ভিতর সংঘটিত হয়।ঘুমের সময় যা সবচেয়ে বেশি হয়।

এখন প্রশ্ন হল, “মানুষ স্বপ্ন কেন দেখে?”

এই প্রশ্নের উওর খুঁজতে গেলে আমাদের ১ম ই যা জানতে হবে তা হল এই স্বপ্ন উৎপাদনের পিছনে মূলে কে? উওর, মস্তিষ্ক।মস্তিষ্ক নামক এই জিনিসটা যখন শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আপাতদৃষ্টে স্থির থাকে (ঘুমের সময়) তখন সে তার কাজ চালিয়ে যায়

যেমন: রক্ত সংবহন, অক্সিজেন সরবরাহ ইত্যাদি।এসব কাজের মধ্যেও আমরা যেমন PC এর File গুলো সাজিয়ে রাখি বা Defrag করি, মস্তিষ্ক তেমনি পুরনো ও নতুন স্মৃতিগুলোকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখে।আর এই কারণেই মানুষ স্বপ্ন দেখে।

ঘুমের মধ্যে হাটাহাটি, মারামারি, কান্নাকাটি!!!কেন? এই প্রশ্নের উওর অনেক জায়গায় অনেক জটিল ভাবে আছে।এগুলোর সারমর্ম নিয়ে সহজ বাংলা করলে উওরটা দাড়ায়, আমরা জানি যে আমরা ঘুমিয়ে থাকলেও আমাদের মস্তিষ্ক অবিরাম Defragment এর কাজ চালিয়ে যায়।এমন সময় অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোর প্রতি নির্দেশ থাকে যে তারা নিষ্ক্রিয় থাকবে। এখন ধরুন আপনার মস্তিষ্ক এমন একটা স্মৃতিকে নিয়ে নাড়াচাড়া করছে যাতে আপনি হয়তো ফুটবল খেলছিলেন।ব্যাস…….অনেক সময়ই আপনার অতি মাতবর হাত পা গুলো পুরানো নির্দেশ ভুলে গিয়ে ঐ স্মৃতি অনুযায়ী………দে দৌড়!!! 😛 একই কারণে হাসি, কান্না, লাফালাফি ইত্যাদি অনেক সময়ই ঘুমন্ত মানুষের মধ্যে দেখা যায়। কারণটা আমি সবার সুবিধার্থে সহজ বাংলায় লিখলাম তাই বেশ হাস্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু এটাই কারণ।

ইতিহাস কি বলে?

শুনে হয়তো একটু অবাক লাগতে পারে যে স্বপ্নের সাথে ইতিহাসের সম্পর্ক কি? আছে রে ভাই আছে!!! ইতিহাস বলে এই যে ঘুমের মধ্যে হাটাহাটি, কান্নাকাটি এসব সাধারণ কর্মকাণ্ডের সাথে নাকি ঘুমের মধ্যে হত্যাকাণ্ড সংঘটনেরও রেকর্ড আছে।

ক্যাথরিন মেরি নাইট। জন্ম ১৯৫৫ সালে এবং মৃত্যু ১৯৮৭ সালে। খুবই সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৮ সালে অর্থাৎ তার বয়স যখন ১৩ বছর তখন তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয় একটি মানবাধিকার সংস্থা।তার পরিবারের প্রতি অভিযোগ ছিল যে তারা ক্যাথরিনের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছিল।এবং অভিযোগ তোলেন ক্যাথরিন নিজেই।

তার পরিবারে ছিল তার তিন ভাই,বাবা এবং চাচা।এসব ঘটনার পর থেকে তিনি পুরুষদের সম্পূর্ণ ঘৃণা করতেন।তারপর তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনেন “ডেভিড কিলেট” নামক এক সহকর্মী।ঘৃণা সরিয়ে ক্যাথরিনের মনে ভালবাসা জাগিয়ে তোলেন তিনি।অবশেষে ১৯৭৬ সালে বিয়ে করেন তারা।দুই ছেলে আর এক মেয়ের মা হলেন ক্যাথরিন।ঘুমের মাঝে নাক ডাকা ও হাটা চলার অভ্যাস ছিল ডেভিডের।এই নিয়ে মিষ্টি মধুর ঝগড়াও হতো তাদের।তারপর হঠাৎ গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেল ক্যাথরিনের….তারপর……………

 

উফফ…হাত ব্যথা করছে।বাকী ঘটনা পর্ব-৩ এ বলব। বিদায়…… 😀
পরের পর্ব