আগের পর্ব

গত পর্বে ছিলাম “ক্যাথরিন মেরি নাইটের”গল্পে।যিনি শিশুকাল থেকেই ছিলেন নির্যাতিত,নিপীড়িত।সমাজের প্রতি তার এই ঘৃণা দূর করে তার জীবনে আসেন “ডেভিড কিলেট.এক রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় ক্যাথরিনের।পাশ ফিরে দেখেন পাশে নেই স্বামী “ডেভিড।ব্যাপারটাকে প্রথমে তেমন গুরুত্ব দেননি।কিন্তু বেশ কিছুটা সময় পার হওয়ার পর উঠলেন তিনি।দেখলেন বারান্দায় হাঁটছেন ডেভিড । পিছন থেকে জড়িয় ধরে স্বামীকে চমকে দিতে চুপি চুপি এগিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যাথরিন।কিন্তু তিনি দেখলেন “ডেভিড” ঘুমের মধ্যেই হাঁটছেন, হাতে চকচকে একটা “ছুরি”।

 

ভয় পেয়ে গেলেন ক্যাথরিন।ডেভিড ঢুকে গেলেন ছেলেমেয়েদের ঘরে।ছোট মেয় ৫মাস বয়সী মেয়েটি ঘুমিয়ে ছিল দোলনায়।অপর দুই ভাই ঘুমিয়ে ছিল বিছনায়।হঠাৎই দোলনায় শুয়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটির গলা চেপে ধরলেন ডেভিড।তারপর হাতের ছুরি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করলেন মেয়েকে।চিৎকার করে উঠলেন ক্যাথরিন।তার পায়ের কাছে পড়ে ছিল তার ছোট্ট মেয়ের ছোট্ট মাথাটি।জ্ঞান হারালেন তিনি।পুলিশ আসল,গ্রেপ্তার করা হল ডেভিডকে।

কিন্তু বিচারের শুরু থেকেই ডেভিড বলে  আসছিল যে, তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন অর্থাৎ তিনি তখন Sleep-walking করছিলেন।বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যার জন্য আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব নেয় ফরেনসিক বিভাগ।বেশ কিছু দিন পর তারা রায় দেন ঘুমের মধ্যে এরকম ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে।

কিন্তু ডা: ম্যাক গর্ডন এর মনে ছিল অন্য প্রশ্ন।তিনি ভাবছিলেন যদি সত্যিই ঘুমের মধ্যে খুন করেন ডেভিড, তবে কেন? তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি পেলেম যুগান্তকারী এক তথ্য।অতীত জীবনে ডেভিড ছিলেন একজন দাগী আসামী।তিন তিনটে খুনের আসামী ছিলেন।তার নিজের মেয়ের মত বাকী তিনটে খুন করেছিলেন তিনি একইভাবে, শিরশ্ছেদ করে।বিচারে স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুদণ্ড হয় ডেভিডের।গল্প এখানেই শেষ নয়।দীর্ঘদিন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন ক্যাথরিন।ডেভিডের মৃত্যুদণ্ডের ঠিক ৬ মাস পর ছোট্ট মেয়ের মত একইভাবে আরেকটি খুন হয়।এবারে ক্যাথরিনের ছোট ছেলে।সেই গভীর রাতেই।কিন্তু এবার কে খুন করল?এমন একজন যে ক্যাথরিনের মতই ডেভিডের খুনের প্রত্যক্ষদর্শী।সে হচ্ছে ক্যাথরিনের বড় ছেলে।

স্বামী ও ছেলের এরকম হত্যা কাণ্ড এমন নাড়া দেয় ক্যাথরিনকে যে তিনি ১৯৮৭ সালে নিজের দেবরের নাতিকে হত্যা করে।এজন্য মৃত্যুদণ্ড হয় ক্যাথরিনের।এই খুনটা,তার ছোট ছেলের খুন এবং তার ছোট্ট মেয়ের খুন সবই নাকি একইভাবে,একই কারণ……Sleep-walking-এ!! এসব আক্রমনাত্নক Sleepwalking কে “Homicidal Sleepwalking” অথবা “Homicidal Somnambulism” নামে বৈজ্ঞানিকভাবে অবহিত করা হয়।

অনেকদিন আগে এরকম একটি কাহিনি শুনেছিলাম যে, “এসলে ম্যানহোক”(নামটা একটু অন্যরকম হতে পারে)নামের এক লোকের স্ত্রীর দুটি বোন ছিল।তিন বোনই যমজ ছিল।ঘুমের মধ্যে বিদঘুটে আচরণ করার অভ্যাস ছিল ম্যানহোক-এর।কিন্তু তাই বলে স্ত্রী ও দুই শালীকে হত্যা করবেন গলা টিপে?তাও একই রাতে? 🙁

স্বপ্ন বিশেষজ্ঞরা বলেন এটা সম্ভব।যে কারও সাথেই হতে পারে এটা।গ্রামে থাকা আমার এক Cousin এরও ঘুমের মধ্যে দৌড়াদৌড়ির স্বভাব আছে।গ্রামে গেলে, আমার সাথেই ঘুমায় সে।ভয়ে আছি, না জানি আমিই কবে…….!! 🙁

আজ এখানেই থাক।পরবর্তী পর্বে আপনার দেখা অর্থহীন শব্দের অর্থ জানাবো।বলব একটি অর্থহীন স্বপ্নই কতকিছু করতে পারে।আর হ্যাঁ!!!রাতে আপনার পাশে যে মানুষটি ঘুমায়, তার ব্যাপারে একটু সাবধান থাকবেন!বলা তো যায় না………. 😛

পরের পর্ব