বাংলা সাহিত্যের প্রসারে এবং বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হচ্ছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।আসুন তাঁর জীবন সম্পর্কে কিছু জেনে নেই

  • জন্ম ঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ই মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।তাঁর বাবার নাম মহর্ষি দেবেন্রনাথ ঠাকুর এবং মায়ের নাম সারদা দেবী ।তার পরিবার সব দিক থেকেই সচ্ছল ছিল।

 

  • শিক্ষা ঃ বাল্যকাল থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পারিবারিক সুশৃঙ্খলটার মাঝে বেড়ে উঠেছেন। তিনি ছোটবেলায় বাড়িতে বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে জ্ঞান , বিজ্ঞান , সাহিত্য , সঙ্গীত ,দর্শন, শিল্পকলা, ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন।১৭ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডন গেলেও প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী না নিয়েই তিনি ফিরে আসেন।

 

  • সাহিত্যচর্চার অভিষেক ঃ কিশোর বয়স থেকেই রবীন্দ্রনাথ লেখালেখি শুরু করেন।১৯০৮ সালে ‘সন্ধ্যা-সঙ্গীত’ দিয়ে তিনি কাব্যরচনা শুরু করেন।

 

  • কর্মজীবন ঃ রবীন্দ্রনাথের কর্মজীবন বলতে জমিদারী দেখাশোনা আর সাহিত্যচর্চা । ১৮৯১ সালে তিনি বাবার নির্দেশে জমিদারির দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন কুষ্টিয়া, শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জ, শাহজাদপুর, নাটোরে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি অসংখ্য ছোটগল্প ও কবিতা রচনা করেন।

 

  • সাহিত্যচর্চা ঃ সন্ধাসঙ্গীতের পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি সাহিত্যচর্চা করেছেন।তবে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে তার সাহিত্যের গতি পরিবর্তিত হয়েছে।তাঁর প্রথম দিকের কাব্যে তিনি ছিলেন রোমান্টিক ও জীবনবাদী।পরবর্তীতে ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়ায় ঘুরতে গিয়ে তাঁর কাব্য লেখার মোড় পরিবর্তিত হয়।তিনি নেমে এসেছেন মর্ত্যের মানুষের কাছে।দেবতার পূজা ছেড়ে তার লেখায় শুরু হয়েছে মানুষের বন্দনা।প্রথম দিকে তার রচনায় রাজনীতি না এলেও শেষ দিকে তিনি রাজনীতি নিয়েও লিখেছেন।

 

  • নোবেল প্রাপ্তি ঃ রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে তাঁর গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পান।এশিয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম এ পুরষ্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন।রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে তিনি ইউরোপ-আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন।

 

  • মানবতার প্রতীক ঃ জালিয়ানওয়ালাবাগে নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত “নাইট” উপাধি ত্যাগ করেন।নোবেল পুরষ্কারের অর্থ দিয়ে তিনি গড়ে তোলেন বিশ্ব-ভারতী ।

 

  • অসাম্প্রদায়িক ঃ রবীন্দ্রনাথ অসাম্প্রদায়িক চেতনার ছিলেন।তিনি শান্তিনিকেতনে মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি এবং মুসলিম শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। “কাজী নজরুল ইসলামকে ” তিনি তাঁর “বসন্ত” নাটক উৎসর্গ করেছেন।তাঁর সাহিত্যে যেসব মুসলিম চরিত্র রয়েছে সেগুলো বিশেষ প্রযত্ন ধন্য।

 

  • উল্লেখযোগ্য রচনাসমুহ ঃ রবীন্দ্রনাথ এর অসংখ্য রচনা রয়েছে। তাঁর মধ্য থেকে কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা হল:-
  1. উপন্যাস ঃ নৌকাডুবি , গোরা , চোখের বালি , চতুরঙ্গ , ঘরে বাইরে, যোগাযোগ , শেষের কবিতা, চার অধ্যায় ।
  2. কাব্যগ্রন্থ ঃ সোনার তরী , চিত্রা, গীতাঞ্জলী , বলাকা, পুরবী , পুনশ্চ, সেঁজুতি, রোগশয্যা, আরোগ্য, জন্মদিন , শেষ লেখা।
  3. নাটক/প্রহসন ঃ বিসর্জন, প্রায়শ্চিত্ত , রাজা , অচলায়তন , ডাকঘর , রক্তকরবী , তাসের ঘর , চণ্ডালিকা , চিত্রাঙ্গদা ।
  4. প্রবন্ধ ঃ আত্মশক্তি , ভারতবর্ষ , লোকসাহিত্য , শিক্ষা , স্বদেশ , শব্দতত্ত্ব , সাহিত্যের পথে , বাংলা ভাষার পরিচয় , সভ্যতার সংকট ।
  5. ভ্রমণ কাহিনী ঃ রাশিয়ার চিঠি , পারস্য , জাপান যাত্রী , ইউরোপ প্রবাসীর পত্র
  6. আত্মজীবনী ঃ জীবন স্মৃতি , ছেলেবেলা , গল্পসল্প ।
  7. জীবনী ঃ চরিত পূজা ।
  8. গল্প ঃ গল্পগুচ্ছ ।

 

  • মৃত্যু ঃ ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট , ১৩৪৮ বাংলা সালের ২২ শ্রাবণ কবিগুরু ইন্তেকাল করেন।