মুনীর চৌধুরী আমাদের সকলের কাছেই অনেক পরিচিত একটি নাম।পরিচিত হবেই না বা কেন 💡  যিনি একাধারে অধ্যাপক, নাট্যকার, সমালোচক, এবং শ্রোতা সম্মোহঙ্কারী বক্তা ছিলেন। যাই হোক, আসুন আজ তার সম্পর্কে কিছু জেনে নিই

 জন্ম ও পরিচয়  মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। তার পুরো নাম আবু নইম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী।

শিক্ষাজীবন ঃ মুনীর চৌধুরী ১৯৪১ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক শেষ করেন।এরপর তিনি আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি এবং পরে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ১৯৪৬ সালে অনার্স এবং ১৯৪৭ সালে মাস্টার্স কমপ্লিট করেন।তিনি ১৯৫৪ সালে পুনরায় বাংলায় মাস্টার্স করেন , কারাগার থেকে তিনি এ পরিক্ষা দেন ।১৯৫৮ সালে তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ভাষাতত্ত্বে মাস্টার্স করেন। 🙄

কর্মজীবন ঃ চাকরী জীবনের শুরুতে তিনি খুলনার দৌলতপুর কলেজ, পরে জগন্নাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিভাগে অধ্যাপনা করেন।পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে যোগদান করে ১৯৪৫ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

গ্রন্থসমুহ ঃ তার রচিত কিছু গ্রন্থের নাম এবং প্রকাশের সাল দেখে নিন  ঃ  :paint:

পূর্ণাঙ্গ নাটক  ঃ  ্রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২) , চিঠি (১৯৬৬)।

মৌলিক একাঙ্ক  নাটক  ঃ মানুষ (১৯৪৭) , পলাশী ব্যারাক (১৯৪৮) , নষ্ট ছেলে (১৯৫০), কবর (১৯৫৩ সালে জেলে বসে লেখা) , একতলা দোতলা (১৯৬৫) , দন্ডকারণ্য (১৯৬৫), একটি মশা (১৯৭০) ।

অনূদিত পুরণাঙ্গ নাটক  ঃ  কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৫৩ — জর্জ বার্নার্ড শ’ র “ইউ নেভার ক্যান টেল” নাটকের অনুবাদ), রূপার কৌটা (১৯৫৩ — জর্জ গলসওয়ার্দীর “দি সিলভার বক্স ” এর অনুবাদ), মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৬৯ — উইলিয়াম শেক্সপিয়রের “টেমিং অব দি অশ্রু” এর অনুবাদ) , জনক (১৯৭০ — অগাস্ট স্ট্রিন্ডবার্ডের “দি ফাদার” নাটকের অনুবাদ)।

অনূদিত একাংক নাটক  ঃ গুর্গন খঁার হীরা (১৯৬৮ — এলান মঙ্কহাউসের “দি গ্র্যান্ড চ্যামস ডায়মন্ড” নাটকের অনুবাদ), ললাটলিখন (১৯৬৯ — রিচার্ড হিউসের “দি ম্যান বর্ন টু বি হাংড” এর অনুবাদ) ।

প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থ ঃ মীর-মানস(১৯৬৫), তুলনামুলক সমালোচনা (১৯৬৯), বাংলা গদ্যরীতি (১৯৭০)।

এসব গ্রন্থ ছাড়াও তার অনেক প্রবন্ধ, ছোটগল্প এবং ভাষাতত্ত্ব বিষয়ক রচনা রয়েছে ।

মৃত্যু ঃ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৪ ডিসেম্বর তিনি আলবদর বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা অপহৃত ও শহীদ হন। ❓

সবাইকে ধন্যবাদ।