✖ পীথাগোরাসের কালো রহস্য ✖

বন্ধুরা,সবাইকে আমার সালাম।আশা করি আপনারা  ভালো আছেন।আজ আমি আপনাদের একটি মজার কাহিনী বলবো। এই কাহিনী অনেকেরই হয়তো অজানা। কাহিনীটি আমাদের সবার চেনা পিথাগোরাস-এর। আসুন কাহিনীটি শুনি।  😛

পীথাগোরাসকে(Pythagoras) কে না চিনে।বিজ্ঞানের ইতিহাসে তার নাম চির স্মরণীয়।তিনি বিজ্ঞান,ধর্ম,গণিত ও সংগীত,ভেষজ ও বিশ্বতত্ত্ব,মন ও আত্মা সব কিছুকে গাণিতিক সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন যে, বিশ্বের সব সংখ্যাই পূর্ণ সংখ্যা বা মূলদ সংখ্যা।যেমন দেড় হল ৩/২ আবার ১.৫ হল ১৫/১০ ইত্যাদি।পীথাগোরাসের এক জন শিষ্য ছিল।তার নাম হিপ্পাসাস(Hippasus)। হিপ্পিয়াস বা মেটাফোন্টামের হিপ্পিয়াস একজন গ্রিস দার্শনিক এবং পিথাগোরাস-এর শিষ্য ।সে পীথাগোরাসকে একদিন বললো যে, তার এই ধারনাটি ভুল।এ কথা শুনে পীথাগোরাস অবাক ! তার শিষ্যকে বলে তার তত্ত্ব ভুল??, এ কথা তিনি কিছুতেই বিশ্বাস করেন না।তখন তার শিষ্য তাকে বলে যে, কোন সমকোনী ত্রিভুজের লম্বের দৈর্ঘ্য ১ একক ও ভূমির দৈর্ঘ্য একক হয়।তাহলে সমকোনী ত্রিভুজের সূএ আনুসারে, অতিভুজের বর্গ = লম্বের বর্গ+ ভূমির বর্গ

=১+১=২

অতএব,অতিভুজের বর্গ = ২ এর বর্গ

যা অমূলদ সংখ্যা। (প্রমানিত)

এ কথা শুনে পীথাগোরাস শিষ্যের কাছে হেরে যাওয়ার বদনামি চাপার জন্য হিপ্পাসাসকে মেরে ফেলেন।তিনি নিজে মেরেছেন না কি তা জানা যায় নি।তবে পরের দিন হিপ্পাসাস(Hippasus)-এর লাশ তার শিষ্যরা সমুদ্রে ফেলে দেয়।

এছাড়া আরো জানা যায়,হিপ্পিয়াসের এই আবিস্কারের আগে পীথাগোরিয়ানরা বিশ্বাস করতো, যে কোনো সংখ্যাকে দুইটি পূর্ণসংখ্যার অনুপাত হিসাবে প্রকাশ করা যায়। হিপ্পিয়াসের আবিস্কারের যৌক্তিক ভিত্তি স্বত্ত্বেও পিথাগোরিয়ানরা এটিকে ধর্মদ্রোহিতা মনে করে এবং তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়। কথিত আছে যে, সমুদ্রে ভ্রমণের সময় এটি আবিস্কার হয় এবং অন্য পীথাগোরিয়ানরা তাকে নৌকা থেকে ফেলে দেয়।

হিপ্পিয়াসকে সাধারণভাবে অমূলদ সংখ্যার জনক বলা হয়। তিনিই প্রথম আবিস্কার করেন যে ২‌-এর বর্গমূল একটি অমূলদ সংখ্যা। অমূলদ সংখ্যা হলো সে সংখ্যা যেটিকে দুইটি পূর্ণসংখ্যার অনুপাত হিসাবে প্রকাশ করা যায় না।

সবাই ভালো ও সুস্থ থাকবেন।

আল্লাহ হাফেয। 🙂

তথ্যসূত্র:- Google মামা আর Wikipedia দাদু। 😛