সবাইকে স্বাগতম জানাই। আবার আমরা ফিরে আসলাম টাইটানিক-এ। গত পর্বে আলোচনা করেছিলাম টাইটানিকের ১০টি ডেক এবং এদের অন্তর্গত বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে। সেই সূত্র ধরেই আরো কিছু তথ্য জানব আমরা এই পর্বে।
গত পর্বে বলেছিলাম প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের ব্যবহৃত বিলাসবহুল সিঁড়ির কথা। তবে অন্যান্য সিঁড়িগুলোও নেহাৎ মন্দ ছিল না। সে সময় সবচেয়ে দামী কাঠ দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছিল বাকী সিঁড়িগুলো।
চলুন এবার একটু ঘূরে আসা যাক Promenade Deck এ অবস্থিত অসাধারণ লাইব্রেরী রুম থেকে। এটি প্রধানত ডিজাইন করা হয়েছিল প্রথম শ্রেণীর মহিলা যাত্রীদের জন্য। এবং নাম ছিল “রিডিং এন্ড রাইটিং রুম।” পরোটি কক্ষ ধবধবে সাদা রং করা হয়েছিল। উওর পাশের বিশাল জানালা দিয়ে অভ্যন্তরীণ মানুষেরা দেখতে পেতেন আটলান্টিকের অসীম সুনীল সৌন্দর্য। পাশাপাশি কক্ষটি গরম রাখার জন্য ছিল ফায়ারপ্লেস।

prominent-deck-titanic

Promenade-এ আরোও যে অসাধারণ এক কক্ষ ছিল তার নাম “First Class Lounge” এটি মূলত পুরুষ যাত্রীদের জন্য তৈরি করা হয়। গল্পগুজব, আড্ডা, পার্টি, কার্ড খেলা ইত্যাদির জন্য ব্যবহৃত হত এটি। বিভিন্ন দামি আসবাবের সাহায্যে সুসজ্জিত ছিল। এক কথায় হই চই, আনন্দ উল্লাস করার প্রায় সকল উপকরণই ছিল এতে।
এই ডেকে “ধূমপান কক্ষ” বা “Smoking Room” নামে একটি কক্ষ ছিল। নাম থেকেই বোঝা যায়, এ কক্ষটি কি কাজে ব্যবহৃত হত। তবে অন্যান্য কক্ষগুলোর মত এতেও আভিজাত্যের কোন কার্পন্যতা ছিল না। এ কক্ষের ফায়ারপ্লেসের ঠিক উপরেই সে সময়ের বেশ দামি একটি তৈলচিত্র ছিল। এটি চিত্রকর নরম্যান উইলকিনসন (Norman Wilkinson) এর আকা। এবং এটির নাম ছিল, “Approach To The New World” অভিজাতদের তথাকথিত “Drinks” এর জন্য একটি ছোট বারও ছিল এ কক্ষে।
Smoking Room এর ঠিক বাইরেই একটু টুকরো বারান্দার মত জায়গা ছিল। এখানে হালকা চা নাস্তার ব্যবস্থা ছিল। এটি খোলা আকাশের নিচে অর্থাৎ ছাউনীবিহীন ছিল। Promenade Deck-এর একমাত্র এই জায়গাতেই 2nd Class যাত্রীদের আসার অনুমতি ছিল।
বিলাসবহুল সিঁড়ির ঠিক পিছনেই ছিল একটি রিসিপশন। সাদা মার্বেল পাথরের তৈরি ছিল এর ডেস্ক।

1st-class-dinning-room-eduportalbd
এবার আসি, ফার্স্ট যাত্রীদের বিলাসবহুল ডাইনিং রুমে।এই কক্ষটি লম্বায় ছিল ১১৪ ফুট। এবং এর প্রস্থ ৯১ ফুট। একসাথে ৫৩২ জনের বসবার ব্যবস্থা ছিল এতে। কোন জাহাজে অবস্থিত ডাইনিং রুমের ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত সর্ব বৃহৎ। এই রুমের ডিজাইন ও ডেকোরেশন করা হয়েছিল ইংল্যান্ডের তৎকালীন বিখ্যাত হোটেল Hatton Hall এর অনুকরণে।

A La Carte Restaurant নামে একটি রেস্টুরেন্ট ছিল টাইটানিকে। যাত্রীদের অন্যতম আকর্ষণের জায়গা ছিল এটি। কয়েকজন অর্কেস্ট্রা (Orchestra) বাদক পুরো রেস্তোরা টাকে সুরে সুরে মুখরিত করে রাখত।
এখানেই শেষ নয়। অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার অনেকটাই এখনও বাকি আছে বলার। আগামী পর্বে সেসব নিয়ে আবার লিখব। বিদায়………..

দি রির্টান অব টাইটানিক [পর্ব-১]
দি রির্টান অব টাইটানিক [পর্ব-২]
দি রির্টান অব টাইটানিক [পর্ব-৩]
দি রির্টান অব টাইটানিক [পর্ব-৪]