প্রথম থেকে যারা এ লেখা পড়ে আসছেন তাদের নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন জেগেছে যে আমি লেখার পর্বগুলোর নাম হালুম দিয়েছি কেন…. আসলে ডোরেমন এর বিড়াল, Spider Man এর মাকড়সা, Bat Man এর বাদুর এদের তোড়জোড়ে আমাদের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর হালুম ডাকটা বড়রাও ভুলে যাচ্ছে। আর ছোটদের মধ্যে অনেকে তো বাঘ যে হালুম ডাকে তা জানেই না। সেটা মনে করিয়ে দিতেই আমার পর্বগুলোর নাম হালুম দিলাম।

ডোরা কাটা বাঘ
হালুম….হালুম……

গত দুই পর্বে ডোরেমন কে বহু দোষারোপ করা হল। কিন্তু ডোরেমন-এর প্রতি শিশুদের এই আসক্তি সৃষ্টির পিছনে দায়ী কে জানেন? আমরাই দায়ী। হ্যাঁ, আমরাই দায়ী। ভেবে দেখুন আগে একটি শিশুকে তার বাবা-মা অনেকটা সময় দিত, সপ্তাহে একদিন ছুটির দিনে পরিবারের সবাই মিলে ঘুরে আসা হত দূরে অথবা কাছাকাছি কোথাও। শিশুকে বুঝতে দেয়া হত তার চারপাশটা, তার চারপাশের মানুষগুলোকে। কিন্তু বর্তমানে যান্ত্রিকতার এই যুগে মেগা সিটি নামক কংত্রিুট-এর অরণ্যে বাবা-মা এতটাই ব্যস্ত যে, নিজের সন্তানটির জন্য এতটুকু সময় তাদের হাতে থাকে না। পরিণামে বাড়ছে কিশোর অপরাধ আর শিশুদের মধ্যে বাড়ছে টিভি কেন্দ্রিক বিনোদন আসক্তি। ডোরেমন-এর উপর দোষ কোথায় বলুন, তাকে তো উল্টো আমাদের ধন্যবাদ দেয়া উচিৎ। যে আনন্দটুকু শিশু তার বাবা-মার কাছ থেকে পাওয়ার কথা, সেই আনন্দের ঘাটতিটুকু মেটাচ্ছে ডোরেমন। অন্তত আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের পাপগুলোকে একটু হলেও আড়াল করে রাখছে ডোরেমন। আজ সময় এসেছে বদলাবার। বসে বসে শুধু স্যাটেলাইটের দোষ না ধরে বদলাতে হবে নিজেকে। শিশুকে তার চারপাশটা বুঝতে দিন। তাকে বুঝতে দিন কি অপার সৌন্দর্য, সম্ভাবনার দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। সারাদিন বসে বসে হিন্দি ফিল্ম বা সিরিয়াল না দেখে শিশুকে দেশটা দেখান দেশের মানুষকে দেখান সাথে নিজেও দেখুন।বাবা-মা শিশুকে সময় দিচ্ছে

বাড়ির কাজের লোকটার প্রতি বাজে আচরণ না করে নিজেও বুঝুন আর শিশুকেও বোঝান যে, তারাও মানুষ। শিশুর মন বোঝার চেষ্টা করুন। তাহলেই দেখবেন আমাদের বাঘ ঠিকই হালুম ডাকবে আর সেই গর্জন শুনবে সারা বিশ্ব। তখন ডোরেমন, ডোরাকেক রেখে শিশুদের সাথে আমরাও ডোরা কাটা বাঘকে চিনব। মনে পড়বে একদিন কবি বলেছিলেন,

শাবাশ বাংলাদেশ

এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়

জ্বলে পুড়ে ছারখার

তবু মাথা নোয়াবার নয়।