গত পর্বে আলোচনা করেছিলাম ডোরেমন ও তার বন্ধুদের পরিচয় নিয়ে।এবার আলোচনা করব তাদের প্রভাব নিয়ে।

প্রথমে চলুন আমরা ছোট্ট একটা Experiment করি। ২য় বা ৩য় শ্রেণীতে পড়া কোন শিশুকে ডোরেমন দেখার সময় বলুন যে, “চলো বাইরে খেলতে যাই” গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি উওর আসবে “না, আমি এখন ডোরেমন দেখছি”

একটি শিশু ডোরেমন দেখছে
একটি শিশু ডোরেমন দেখছে

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য বাইরের আবহাওয়ায় খেলাধুলা জরুরি। কীভাবে হবে…… ডোরেমন যে তার গ্যাজেটের জাদুতে বন্দি করে ফেলেছে আমাদের ছোট্ট প্রজন্মকে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, শিশুর পারিপার্শ্বিক মানুষজন ও পরিবেশ তার উপর প্রচুর প্রভাব ফেলে। ডোরেমন আর নোবিতার ডজন ডজন মিথ্যে কথা আর পরনির্ভরশীলতা আমাদের শিশুদের যে কী পরিমাণ ক্ষতি করছে তা বুঝতে নিশ্চয়ই বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই।

ডোরেমন সবচেয়ে বড় কুপ্রভাব হচ্ছে ভাষা বিকৃতি।বর্তমানে বাংলাদেশে বেশিরভাগ শিশুই বাংলার চেয়ে সম্ভবত হিন্দি বেশি পারে। না পারলেও তাদের আপ্রাণ চেষ্টা থাকে হিন্দি শেখার।কারণ ডোরেমন যে হিন্দিতে কথা বলে।একটি শিশু আকাআকি করছে

ধীরে ধীরে আমাদের ছোট্ট প্রজন্মের সম্ভবত সত্ত্বাকেই যেন কব্জা করে নিচ্ছে ডোরেমন। আজকের শিশুরা নিজে কিছু চিন্তা করতে পারে না।যা কিছু তাদের কাছে কঠিন লাগে তখনই তাদের মনে হয় যদি ডোরেমন থাকত!!! আগে যেখানে শিশুরা আকাআকি করে, গান গেয়ে, খেলাধুলা করে নিজেদের সৃজনশীলতার বিকাশ করত সেখানে এখন তো তাদের ডোরেমন দেখতে দেখতেই দিন পার। আগে বিকালে বা অন্য অবসর সময়ে শিশুরা হয় কিছু আকাআকি করত বা কিছু তৈরি করতে চেষ্টা করত। কিন্তু এখন তারা সে সময়টুকু নষ্ট করছে ডোরেমন দেখে। ডোরেমন তার গ্যাজেট দিয়ে নোবিতার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আমাদের নতুন প্রজন্মে সৃষ্টি করছে নতুন নতুন সমস্যা

কিন্তু সময় এসেছে কিছু করার। এসব নিয়ে আলোচনা করব পরের পর্বে