জন্ম  ঃ বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইংরেজি ১৮৯৯ সালের ২৫ মে , বাংলা ১৩০৬ সালের ১১ জৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বরধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

শৈশব ঃ কাজী নজরুল ইসলামের পিতার নাম ফকির আহমদ এবং মাতার নাম জাহেদা খাতুন ।পর পর কয়েকটি পুত্র সন্তান মারা যাওয়ার পর কবির জন্ম  হয়েছিল বলে তার বাবা মা তার নাম রাখেন দুখু মিয়া ।তিনি গ্রামের মক্তব থেকে নিম্ন প্রাথমিক পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৪ বছর বয়সে রানীগঞ্জের সেয়ারসোল রাজ হাইস্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন ।পরে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন।

বাল্যকাল ও কৈশোর ঃ কবির বাল্যকাল ও কৈশোর অনেক বিচিত্র ও দুঃখময় পরিবেশে অতিবাহিত হয়।দুঃখ দারিদ্রের মধ্যে জীবনযাপন করে কবি নিপীড়িত মানবতার জয়গান করেছেন।তিনি আমাদের জাতীয় কবি।বিদ্রোহী কবি হিসেবেও তিনি পরিচিত।বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে কবির অবদান অবিস্মরণীয়।তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন।তিনি অসংখ্য গান ,কবিতা,প্রবন্ধ , উপন্যাস, নাটক, গল্প এবং গজল রচনা করেছেন।শ্যামাসঙ্গীত রচনায় ও তিনি পারদর্শী ছিলেন।

রচনাসমুহ ঃ কবি নজরুল ইসলামের অসংখ্য রচনা রয়েছে।নিচে কয়েকটি দিলাম ঃ

কাব্যগ্রন্থ ঃ অগ্নিবীণা, দোলন  চঁাপা, বিশেষ বাণী, ছায়ানট, সর্বহারা, নতুন চঁাদ, সাম্যবাদী, মরু ভাস্কর, ঝড়, সিন্ধু হিল্লোল , চক্রবাক ইত্যাদি।

উপন্যাস ঃ বঁাধন হারা, কুহেলিকা, মৃত্যুক্ষুধা ।

গল্প ঃ শিউলি মালা, রিক্তের  বেদন, ব্যাথার দান ।

নাটক ঃ পুতুলের বিয়ে, ঝিলিমিলি, আলেয়া, দূর্দিনের যাত্রী, রাজবন্দীর জবানবন্দী, সুরবালা।

গানের বই ঃ চোখের চাতক, বুলবুল, নজরুল গীতিকা, গীতি শতদল।

অনুবাদ ঃ রুবাইয়াতে হাফিজ, রিবাইয়াতে উমর খৈয়াম, কাব্যে আম্পারা।

মৃত্যু ঃ কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট ঢাকার পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাষ ত্যাগ করেন।তঁার শেষ ইচ্ছানুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ সংলগ্ন  এলাকায় পরিপুর্ণ সামরিক মর্যাদায়  তঁাকে সমাহিত করা হয়।